ফ্রিল্যান্সিং ধারাবাহিক ।

আমার দেশ ‘বিজ্ঞান ও কম্পিউটার’ পাতায় নিয়মিত ভাবে ছাপা হচ্ছে— অনলাইন আয়ের ১০০টি টিপস শীর্ষক টিউটোরিয়াল পর্ব। এসব বিষয়ে নিয়মিত লিখবেন আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেসে সফল ফ্রিল্যান্সার, বিভিন্ন কর্মশালা
ও প্রশিক্ষণ পরিচালনাকারী ও ব্লগার- মো: ইকরাম
আগ্রহী যারা ফ্রিল্যান্সিংয়ে ক্যারিয়ার গড়তে চান, চোখ রাখুন প্রতি মঙ্গলবার।
অনলাইনে আয়ের ১০০ উপায়
(পর্ব ৩)
গুগল থেকে আয় করুন সারাজীবন
গুগলের ব্যাপক জনপ্রিয়তার কারণে সারা বিশ্ব থেকে হাজার-হাজার প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্য ও সেবা বিক্রি করার জন্য গুগল অ্যাডওয়ার্ডসের মাধ্যমে অনেক অর্থের বিনিময়ে বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকে। এই বিজ্ঞাপনগুলোকে মানুষের খুব কাছে পাঠানোর জন্য গুগল যে পদ্ধতি অবলম্বন করে, সেই প্রোগ্রামের নামই হলো গুগল অ্যাডসেন্স। অ্যাডসেন্সের মাধ্যমে গুগল বিভিন্ন ওয়েবসাইট, ব্লগসাইট, ফোরাম, কমিউনিটি ইত্যাদি সাইটের মালিকদের অর্থ আয় করার সুযোগ করে দেয় কিছু সহজ শর্তের মাধ্যমে।
অ্যাডসেন্স হলো অনলাইনে আয়ের সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি। অ্যাডসেন্স হলো গুগলের একটি অ্যাডভার্টাইজিং প্রোগ্রাম। গুগল অ্যাডসেন্স যদিও বহুদিন আগে থেকেই সারা বিশ্বে একটি নির্ভরযোগ্য ও দীর্ঘমেয়াদি উপার্জনের পদ্ধতি হিসাবে স্বীকৃত, কিন্তু বাংলাদেশে বিষয়টি অনেকের কাছেই নতুন।
অ্যাডসেন্সের মাধ্যমে যে কোনো ধরনের ওয়েবসাইটের থেকে উপার্জন সম্ভব। শর্ত হচ্ছে, সেই সাইটকে জনপ্রিয় করতে হবে। সাইটে প্রচুর ভিজিটর ঢুকতে হবে, ভালো কনটেম্লটস থাকতে হবে। ভিজিটর একবার সাইটে প্রবেশ করে আবার প্রবেশ করার আগ্রহ থাকে—এ ধরনের কনটেম্লটস প্রতিনিয়ত আপডেট রাখতে হবে। সাইটে ভিজিটর প্রবেশ করানো এবং তাদের ধরে রাখতে পারলে ভিজিটরদের একটি অংশ স্বাভাবিকভাবেই গুগলের বিজ্ঞাপনে ক্লিক করবে। মনে রাখতে হবে, যত বেশি ভিজিটর আপনার সাইটে থাকবে তত আপনার উপার্জনের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে। হিসাব করে দেখা গেছে, প্রতিদিন গড়ে এক হাজার ভিজিটর সাইটে প্রবেশ করলে গড়ে ১০ শতাংশ ভিজিটর গুগল প্রদর্শিত বিজ্ঞাপনে ক্লিক করে। এতে গড়ে প্রতিদিন ১০ ডলার উপার্জন হবে। অর্থাত্ মাসে ৩০০ ডলার বা ২০ হাজার টাকা উপার্জন করা সম্ভব।
তবে বেশি ইনকামের লোভে নিজেরা বসে বসে ক্লিক করলে নিজেরই সর্বনাশ হবে। গুগল PTC, Add Click, MLM-এর মতো বাটপার কোম্পানি নয়। Fake Click করলে গুগল তার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেবে। যেহেতু সাইটের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল রেখে গুগল বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে, সেহেতু ভিজিটর যদি সাইটের contents দেখার পাশাপাশি গুগলের অ্যাডে ক্লিক করে, ওই বিজ্ঞাপনদাতার সাইটে স্বাভাবিকভাবে প্রবেশ করে (এক্ষেত্রে ভিজিটর কিন্তু ঋধশব ক্লিক করেনি, বরং তার নিজস্ব আগ্রহে ওই বিজ্ঞাপনদাতার সাইটে প্রবেশ করেছে) তবেই হবে সত্যিকারের ক্লিক। এ ধরনের স্বাভাবিক ক্লিক করলেই আপনার উপার্জন হবে। গুগল তার অ্যাডসেন্স প্রোগ্রামের জন্য এমন টেকনোলজি ব্যবহার করেছে যে, কেউ Fake ক্লিক করলে তা ধরে ফেলতে সক্ষম। অতএব এ ধরনের অসাধু চিন্তা মাথা থেকে ঝেরে ফেলতে হবে।
মনে রাখতে হবে, অ্যাডসেন্স একটি দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসা। এর পুঁজি হচ্ছে, আপনার ব্লগিং পরিকল্পনা ও সঠিকভাবে তার ব্যবহার। গুগল অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্ট পেতে হলে আপনার একটি ইমেইল, ওয়েবসাইট/ব্লগ থাকতে হবে। তারপর আপনাকে অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্ট করতে হবে। গুগল আপনার সাইট দেখে পছন্দ হলে আপনাকে গ্রহণ করবে। তাই আপনাকে খুব সুন্দর ও তথ্যবহুল সাইট করে রিকোয়েস্ট করতে হবে। পরিশ্রম করে একটা ভালো মানের ব্লগ সাইট তৈরি করতে পারলে, পর্যাপ্ত ভিজিটর সাইটে প্রবেশ করাতে পারলে, মাসে হাজার ডলার উপার্জন করা সম্ভব—এটা কল্পনা নয়, বাস্তব।
যারা অ্যাডসেন্স ব্যবহার করে দীর্ঘমেয়াদি উপার্জন করতে চান তাদের জন্য নিচে কিছু গাইডলাইন প্রদত্ত হলো—
১. যে ধরনের ব্লগিং সাইট করতে চান, তা ভেবেচিন্তে নির্বাচন করুন, অর্থাত্ যেসব সাইটে ভিজিটর বেশি প্রবেশ করে সে ধরনের সাইট তৈরি করুন।
২. সাধারণত শিক্ষামূলক (কম্পিউটারের বিভিন্ন বিষয়সহ অন্যান্য শিক্ষা), সাধারণ জ্ঞান, খেলাধুলা, স্বাস্থ্যসম্পর্কিত, ফিটনেস টিপস্, ইত্যাদি বিষয়ের সাইটে ভিজিটর বেশি হয়ে থাকে। এ ধরনের ভালো মানের সাইটকে ফলো করে আপনিও অনুরূপ ব্লগিং সাইট তৈরি করতে পারেন।
৩. প্রথমেই টাকা উপার্জনের চিন্তা মাথায় না এনে যথেষ্ট সময় নিয়ে সাইটকে সমৃদ্ধ করতে চেষ্টা করুন।
৪. কখনোই কোনো সাইটের উপাদান কপি করে আপনার সাইটে পোস্ট করবেন না। অবশ্য ভালো কোন ব্লগিং সাইটকে অনুকরণ করে নুতন আর্টিকেল, টিউটোরিয়াল, টিপস্ ইত্যাদি পোস্ট করতে পারেন।
৫. সাইট পরিপূর্ণভাবে তৈরি হলে ভিজিটর বাড়ানোর জন্য মনোযোগী হন। এক্ষেত্রে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন বা এসইওর প্রাথমিক বিষয়গুলো প্রয়োগ করুন। (ব্যাকলিংক তৈরি, ফোরামে পোস্ট, বুকমার্কিং ইত্যাদি)
৬. সবশেষে অ্যাডসেন্সের জন্য আবেদন করুন।
৭. বাংলা ব্লগে খুব সহজে অ্যাডসেন্স সুবিধা পাবেন না, সেক্ষেত্রে ইংরেজি হলে ভালো হবে।
অ্যাডসেন্স করতে http://www.google.com/adsense এখানে যাবেন।
http://www.seotrainingbd.com

ফ্রিল্যান্সিং আউটসোর্সিং বিষয়ক প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন : আমি একজন কম্পিউটার অপারেটর। আমার যথেষ্ট আগ্রহ আছে আউটসোর্সিংয়ে। আমার ইংরেজি টাইপিং স্পিড বেশ ভালো। প্রাথমিক পর্যায়ে আমি আউটসোর্সিং ডাটা এন্ট্রির কাজ দিয়ে শুরু করতে চাই। এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেয়ার প্রয়োজন মনে করছি, যেমন আমার প্রোফাইল কীভাবে উন্নত করব, কীভাবে কাজের জন্য বিড করব ইত্যাদি বিষয় জানার জন্য। এ বিষয়ে জানালে আমি এবং আরও অনেকে উপকৃত হবে।
মাহমুদুল হাসান, ধানমন্ডি, ঢাকা।
mahmud2780@yahoo.com

পরামর্শ : আপনি নিয়মিত লক্ষ্য রাখুন। এই বিষয় ছাড়াও আরও অনেক বিষয়েই জানতে পারবেন আমাদের আউটসোসিং বিষয়ক ধারাবাহিকটিতে।

প্রশ্ন : আউটসোর্সিংয়ের মৌলিক ধারণাটা কেমন? আমি জানতে চাই, এই কাজ কীভাবে শুরু করা যায়। স্কুল লেভেলের শিক্ষার্থীরা কি এই কাজ করতে পারবে? তাদের জন্য সহজ কোনো কাজ কি আছে?
আজমাইন মাহতাব তাসিন
m.azmain@yahoo.com
পরামর্শ : কেউ যদি ইংরেজিতে মোটামুটি দক্ষ হয়, ইন্টারনেট চালানোয় যদি পারদর্শী হয়, তবে সে অনলাইনে ইনকাম করতে পারে। তবে আউটসোর্সিংয়ের কাজের আগে প্রাথমিক জ্ঞান অর্জন করে নেয়াটা নিজের ভবিষ্যতের জন্য ভালো হবে।

প্রশ্ন : আমি সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন বা এসইও শিখতে চাচ্ছি। কোথায় এসইও বা আউটসোর্সিং কোর্স করলে ভালো হবে। বিস্তারিত জানালে খুশি হব।
রাশেদ ইকবাল
বি-ফার্ম, ফ্যাকাল্টি অব ফার্মেসি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
rash_du_pharmacy@yahoo.com
পরামর্শ : ইন্টারনেটের মাধ্যমেই আপনি এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পারেন। তাই শেখার জন্য আপনি প্রাথমিকভাবে ইন্টারনেটকেই বেছে নিতে পারেন। এখন বাংলাদেশে অনেক প্রতিষ্ঠান আউটসোর্সিং ও এসইও বিষয়ে প্রশিক্ষন দিচ্ছে। ইচ্ছে করলে ভর্তি হয়ে হাতে কলমে শিখতে পারেন। তবে যেখানেই শিখুক না কেন, ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান ও প্রশিক্ষক সম্পর্কে ধারনা নিয়ে তা জেনে নেবেন।
প্রশ্ন : আমার দেশ পত্রিকা আমার সবচেয়ে পছন্দের। এখানে বিজ্ঞান ও কম্পিউটার পাতা যদি প্রতিদিন রাখা হতো তাহলে এসব বিষয়ে অনেক জানতাম।
জহিরুল ইসলাম
ফেনী সরকারি কলেজ, ফেনী
remufeni11@gmail.com
পরামর্শ : না ভাই, প্রতিদিন সম্ভব নয়। এটি সাপ্তাহিক ফিচার পাতা।

প্রশ্ন : আমি ২০১২ সালে সায়েন্স থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছি। আমি এখন অনলাইনে কাজ করতে ইচ্ছুক। বিশেষ করে আমি ফ্রিল্যান্সিং করতে চাই। আমাকে কিছু পরামর্শ দিবেন।
আশিকুর রহমান, নোয়াখালী।
asikurrahman7@gmail.com
পরামর্শ : আউটসোর্সিংয়ের যে কোনো কাজ শুরু করার আগে ভালোভাবে জেনে কাজ শুরু করতে হবে। না জেনে কাজ শুরু করলে তেমন লাভ নেই। আপনি আমাদের ধারাবাহিক অনলাইন ইনকামের ওপর আলোচনায় চোখ রাখুন। আশা করা যায়, কিছু বিষয় আয়ত্তে এসে যাবে।

ডোল্যান্সার : অনলাইন আয়ের নামে প্রতারণা ।

আপনি বেকার, লেখাপড়া কম জানেন, নো টেনশন। ঘরে কম্পিউটার আর ইন্টারনেট থাকলেই হবে! আয় করতে পারবেন ডলার! ৫০টি বিজ্ঞাপনে ক্লিক করলেই প্রতিদিন এক ডলার! মাস শেষে ৩০ ডলার, যা বাংলাদেশী টাকায় আড়াই হাজার টাকারও বেশি। অথচ বিনিয়োগ করতে হবে এককালীন মাত্র সাড়ে সাত হাজার টাকা। এ ধরনের লোভনীয় অফারের কথা বলে ডোল্যান্সার (dolancer.com) নামের ইন্টারনেটভিত্তিক এমএলএম প্রতিষ্ঠান চটকদার ফাঁদ পেতে বসেছে। আর এদের প্রতারণার ফাঁদে পা দিচ্ছেন হাজার হাজার বেকার তরুণ-তরুণী। তাদের ফ্রিল্যান্স কাজের সুযোগ করে দেয়ার কথা বলে ভূঁইফোঁড় প্রতিষ্ঠানগুলো হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। এক হিসাবে দেখা গেছে, সারা দেশে প্রায় সাড়ে চার লাখ মানুষের কাছ থেকে সদস্য বানানোর কথা বলে এই প্রতিষ্ঠানটি এরই মধ্যে হাতিয়ে নিয়েছে ৫০০ কোটি টাকারও বেশি। বিভিন্ন ফ্রিল্যান্স কাজের কথা বলা হলেও করার মতো এতে আসলে কোনো প্রজেক্ট থাকে না। যে কোনো দিন ডোল্যান্সার অফিস গুটিয়ে উধাও হয়ে যাবে, এমন আশঙ্কাও করছেন অনেক সদস্য।

কিছু তথ্য জেনে নেয়া যাক
ডোল্যান্সার একমাত্র আউটসোর্সিং সাইট যাতে কাজ করার জন্য প্রথমেই জামানত দিতে হয়। অন্য কোনো আউটসোর্সিং কোম্পানিতে কাজ শুরু করার জন্য কোনো টাকা দিতে হয় না। ডোল্যান্সার ওয়েব সাইট বলে, এটি ইউএসএভিত্তিক প্রতিষ্ঠান। অথচ বাস্তবে বাংলাদেশ ছাড়া অন্য কোথাও তাদের কার্যক্রম দেখা যায়নি। অন্যান্য আউটসোর্সিং সাইটের কোনোটাই বাংলাদেশ থেকে পরিচালিত হয় না। সুতরাং তাদের লোকাল লেনদেন না হওয়াটা স্বাভাবিক। অথচ যেখানে ডোল্যান্সার বলছে তারা বাংলাদেশ থেকেই কাজ করছে, কিন্তু আবার ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন করছে না। তারা দেশি কারেন্সি ব্যবহার করছে না, ব্যবহার করছে ইউএস ডলার। তারা জমা নিচ্ছে ১০০ ডলার। যার পরিবর্তে আবার (পুরনো ইউজারের মাধ্যমে) দেয়া হচ্ছে ৭ হাজার টাকা। অথচ বর্তমানে ডলারের দাম ৮০ টাকার ওপর। তাদের ওয়েবসাইটে এমন বেশকিছু ত্রুটি দেখা যায়, যাতে বোঝা যায় যে এটি আমেরিকান কোনো সুপ্রতিষ্ঠিত কোম্পানির সাইট হতে পারে না। সাধারণ ব্যবহারকারীরা এটা বুঝতে না পারলেও একজন অভিজ্ঞ ওয়েব ডেভেলপারের পক্ষে বোঝা কঠিন নয়। এটি একটি এমএলএম কোম্পানি।

ঠকানোর অভিনব কৌশল
সাবধান! এর আগেও অনেক এমএলএম কোমপানি আমাদের ফাঁকি দিয়ে পালিয়েছে। ক্লিকের জন্য টাকা? ক্লিক করলেন আর টাকা পেয়ে গেলেন। এই ক্লিকের ফলে কে কীভাবে উপকৃত হলো? বিষয়টি অযৌক্তিক নয় কি? ইন্টারনেট-প্রযুক্তি সম্পর্কে যাদের ধারণা নেই তাদের কাছে বিষয়টি অজ্ঞাত হলেও ওয়েব ডেভেলপাররা ঠিকই বোঝেন যে, এটি ধোঁকা দেয়ার কৌশল ছাড়া কিছু নয়। এখানে আয় শুধু সীমাবদ্ধই নয় বরং খুব কমও। একাটি অ্যাকাউন্ট থেকে দিনে সর্বোচ্চ এক ডলার। তাহলে একজন মাসে আয় করতে পারে ১ ডলার – ৩০ দিন – ৭০ টাকা = ২ হাজার ১শ’ টাকা মাত্র। তাও ৭ হাজার টাকা নগদ বিনিয়োগ, কম্পিউটার, ইন্টারনেট খরচ এবং প্রতিদিন ডিউটি পালন করার পর। সব মিলিয়ে তারা খুব সীমিত টাকাই প্রদান করছে, আর এমএলএমের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে টাকাগুলো তাদের কাছেই রাখছে। যেভাবে একেকজন আগ্রহ দেখাচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে ইনকাম প্রচুর। এখানে দুটো বিষয়। প্রথমত, সত্যিই কি প্রচুর ইনকাম? উপরের অংকটা যদি সঠিক হয় তাহলে ইনকাম প্রচুর একথা বলা যায় না। দ্বিতীয়ত, যদি উপরের অংকটা সঠিক না হয়, অর্থাত্ প্রচুর ইনকামের সম্ভাবনা থেকে থাকে তাহলে ফাঁকিবাজির সম্ভাবনাটাও কিন্তু বাড়ে। শর্টকাটের লোভ আর খেটে খাওয়ার মানসিকতা না থাকার কারণেই এসব ধোঁকাবাজ বারবার চিট করার সুযোগ পাচ্ছে। তাই ইউএস ডলার, ইন্টারনেট, কম্পিউটার—এসব শুনেই বিভ্রান্ত হবেন না। হিসাব করুন এবং বোঝার চেষ্টা করুন, এটি এমএলএম ধোঁকাবাজির একটি ডিজিটাল সংস্করণ।

ডোল্যান্সারের আয়-রোজগার
আপনাকে দৈনিক ১০০টি (সম্ভবত) লিঙ্ক/অ্যাড দেয়া হবে। আপনি সেই লিঙ্কগুলোতে ক্লিক করবেন। প্রত্যেক ক্লিকে পাবেন ১ সেন্ট, ১০০ ক্লিকে ১ ডলার। সেই হিসেবে মাসে ৩০ ডলার, সেটা দিয়ে আপনি আপনার এক মাসের কিস্তি শোধ করবেন। ৩ কিস্তি শোধ করার পর আপনি নিজের পকেটে টাকা তুলতে পারবেন। থাকবে আপনার ধৈর্য? এই পিটিসির কাজই যদি করতে চান, অন্য কোনো বিশ্বস্ত সাইটে গিয়ে করুন। আজ থেকেই আপনার পকেটে টাকা আসা শুরু হবে।

ওয়েবসাইটে বিভ্রান্তিকর তথ্য
সদস্যরা যখন ক্লিকের অর্থ আদায়ের জন্য অফিসে ধরনা দিচ্ছেন দিনের পর দিন, তখন তাদের ওয়েবসাইটে ঢুকলে মূল পাতায়ই চোখে পড়ে কিছু তথ্য : (গতকাল পর্যন্ত) ফ্রিল্যান্স প্রফেশনালস ২,৯০,১৫৩ জন, ব্যবহারকারীদের ২০,০৮,০৮৭.০৭ ডলার, শেষ হওয়া মোট প্রকল্প ৮৫৬। কাজের ক্ষেত্র হিসেবে প্রজেক্ট বিবরণে আছে ৬৬টির নাম। ডোল্যান্সার তাদের মাধ্যমে ৮৩৬টি ফ্রিল্যান্স কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা দাবি করলেও সে সম্পর্কে কোনো তথ্য তো নেই-ই, আছে বড় ফাঁকির নিদর্শন। সাইটে বাংলাদেশের কোনো কার্যালয়ের ঠিকানা, ফোন নম্বর কিছুই নেই। ক্যালিফোর্নিয়ার ‘ডোল্যান্সার ইনকরপোরেটেড’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা ও ফোন নম্বর সাইটে দেয়া আছে, তবে গুগল দিয়ে তন্ন তন্ন করে খুঁজেও যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের কোনো প্রতিষ্ঠান থাকার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। জানা যায়, ইনটুইট ইনফোসিস নামের একটি সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের মালিক রোকন ইউ আহমেদ এই ডোল্যান্সার গড়ে তুলেছেন।

ডোল্যান্সারের সদস্য ফি
dolancer.com নিজেদের পরিচয় দেয় ফ্রিল্যান্সিং সাইট হিসেবে। দুনিয়ার সবচেয়ে বড় ফ্রিল্যান্সিং সাইটগুলো হলো odesk.com, freelancer.com, elance.com, guru.com ইত্যাদি। আপনি এসব সাইটে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন যে এ সাইটগুলোর কোনোটাতেই সদস্য হতে টাকা লাগে না। অথচ এই ডোল্যান্সারে সদস্য হতে আপনাকে দিতে হবে ১০০ ডলার, যার ১০ ডলার সদস্য হওয়ার সময় আর বাকি ৯০ ডলার তিন মাসে সমান কিস্তিতে।

ডোল্যান্সারের বয়স ১২ বছর!
এটি একটি ডাহা মিথ্যা কথা। এই সাইটের ডোমেইন কেনা হয়েছে এড়উধফফু থেকে, রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১১। হালনাগাদ করা হয়েছে গত বছর ২৭ সেপ্টেম্বর। হোস্টিং কেনা হয়েছে ঝড়ভঃখধুবত্ নামক সস্তা একটি প্রতিষ্ঠান থেকে। ডোমেইন নাড়ি-নক্ষত্রের লিঙ্ক http://who.godaddy.com/whois.aspx?
domain=dolancer.com&prog_id=GoDaddু

ডোল্যান্সারের ডলারের মূল্য ৭০ টাকা!
সদস্য ফি ১০০ ডলার। অথচ সেটা নেয়া হয় বাংলাদেশী টাকায় ৭ হাজার টাকা। ইউএস ডলারের বর্তমান বাজার দর ৮০-৮৫ টাকা, সেই হিসেবে ১০০ ডলার হওয়ার কথা ৮০০০-৮৫০০ টাকা! বাকি টাকা কি তারা পকেট থেকে দেন? আরেকটা বিষয়, এই সাইটের ৯৯.১ ভাগ ভিজিটর বাংলাদেশ থেকে! সাইটের কাজের পরিসংখান দেখতে গিয়ে জানা যাচ্ছে, এটি হচ্ছে The world’s largest outsourcing & Website leasing marketplace! অথচ এখন পর্যন্ত তাদের সদস্য সংখ্যা ২৭৮৪৯১, প্রজেক্ট আছে ৮৩৬টি আর এখান থেকে সম্পন্ন হওয়া প্রজেক্টের সংখ্যা শূন্য। সদস্যরা মোট আয় করেছেন ২০০৯৭৪৫.৭৬ ডলার।

ডোল্যান্সারের সাইটের অবস্থা
Freelancer.com-এর সঙ্গে যারা পরিচিত তাদের কাছে Dolancer-এর চেহারাটা চেনা মনে হবে! যখন ডুল্যান্সার জন্ম নেয়, তখন Freelancer.com-এর ঠিক এরকমই চেহারা ছিল। শুধু রঙের একটু তারতম্য! এই সাইট কোড-ইগনিটার পিএইচপি ফ্রেমওয়ার্কে করা হয়েছে। যারা জানেন, তারা ঘটনা আঁচ করেছেন। সাইটের ঝছখ ইনজেক্ট করা যায়! কয়েকটি লিঙ্ক দেখলে কিছুটা বুঝতে পারবেন।

আরও যারা প্রতারণা করছে
ঢাকা মহানগরীসহ সারা দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় ক্লিকের নামে অবাধে প্রতারণা চলছে। সাধারণ মানুষ ইন্টারনেট সম্পর্কে ভালোভাবে অবগত না থাকার কারণে এক্ষেত্রে প্রতারণার সুযোগ পাচ্ছে সব প্রতিষ্ঠান। এমএলএমের নামে ব্যবসা করলেও অধিকাংশ কোম্পানি বলছে তারা আউটসোর্সিং কোম্পানি। ইন্টারনেটভিত্তিক এসব প্রতিষ্ঠান প্রতিনিয়ত প্রতারণা করলেও দেখার যেন কেউ নেই! সুযোগ বুঝে দেশে ক্লিকের নামে প্রতারণা করা কোম্পানির সংখ্যা বেড়েই চলেছে। অনুসন্ধানে ক্লিকের নামে যেসব প্রতিষ্ঠান প্রতারণা করছে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অনলাইন ক্লিক এমএলএম কোম্পানিগুলো হচ্ছে—ল্যান্সটেক, রিয়েল সার্ভে অনলাইন, স্কাইলান্সার, পেইড টু ক্লিক, অ্যাড আউটসোর্সিং, স্কাই ওয়াকার, মাস্টার ক্লিকার, শেরাটন বিডি, নিউ শেরাটন বিডি, পয়সা.কম, ইউনিক রেঞ্জ, আর্ন টু অনলাইন, অনলাইন অ্যাড ক্লিক ইত্যাদি।

ফ্রিল্যান্সাররা বলছেন প্রতারণা
ইন্টারনেটে ফ্রিল্যান্স কাজ করায় অভিজ্ঞ তাহের চৌধুরী সুমন বলেন, ডোল্যান্সার কোনো ফ্রিল্যান্সিং সাইট নয়। লোকজনকে ফ্রিল্যান্স কাজের প্রলোভন দেখিয়ে অনেক টাকা নিয়ে তাদের যুক্ত করা হচ্ছে। ফ্রিল্যান্সার রুবেল আহমেদ বলেন, ডোল্যান্সারের কারণে সাধারণ মানুষ ফ্রিল্যান্সিং মানে এখন ওয়েবসাইট ক্লিক করাকে বোঝেন। এ ধরনের ওয়েবসাইট ক্লিক করে টাকা আয়ের চিন্তা যারা করবেন, তারা জীবনেও সফল হবেন না। বিশ্বের প্রতিষ্ঠিত ফ্রিল্যান্স কাজের সাইটগুলো কোনো অর্থ নেয় না বলেও জানান ফ্রিল্যান্সাররা। ‘আমাদের প্রযুক্তি’ ফোরামের সঞ্চালক সবুজ কুমার কুণ্ডু জানান, ‘তরুণদের অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে এক ধরনের জোচ্চোর ও প্রতারক ইন্টারনেটে প্রতারণার ব্যবসা খুলে বসেছে। যারা ফ্রিল্যান্সার হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করতে চান তাদের এখনই সতর্ক হতে হবে। নতুবা বড় ধরনের সর্বনাশ হতে পারে। কাজের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত মার্কেট প্লেস যেমন ওডেস্ক.কম, ফ্রিল্যান্সার.কম, ইল্যান্স.কম-এর মতো সাইটে কাজ শুরু করতে হবে। যেসব সাইটে কাজ শুরু করতে টাকার প্রয়োজন হয়, সেগুলো এড়িয়ে চলতে হবে।

প্রতারণা বন্ধে প্রয়োজন আশু পদক্ষেপ
এটা জানেন নিশ্চয়ই, এই উড়ষধহপবত্-এ কারও রেফারেন্স ছাড়া সদস্য হওয়া যায় না। পুরো এমএলএম, স্বার্থ কোথায় বুঝছেন? অনেক কিছু জানলেন, এরপর আপনি কি করবেন সে সিদ্ধান্ত নেবেন আপনি। আউটসোর্সিং যদি আপনার উদ্দেশ্য হয়ে থাকে তাহলে নিরাপদ ও বিশ্বস্ত পথে আসুন। ক্লিকের নামে তথাকথিত অলস কাজ করে আর প্রতারিত হবেন না। এতে একদিকে একজন লোক পিসি বা ল্যাপটপের সামনে বসে থেকেও শুধু ক্লিক ছাড়া কিছু শিখতে পারছে না, অপরদিকে প্রতারিত তো হচ্ছেই। তাই সবার সাবধান থাকার পাশাপাশি এসব প্রতারণা বন্ধে কর্তৃপক্ষের আশু আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।

ইন্টারনেটে অর্থ আয় কতটা সহজ ।

এম. হারুন অর রশিদ
ইদানীং ইন্টারনেট ব্যবহার করে ঘরে বসে সহজে টাকা উপার্জনের বিষয়টি অনেককে আকৃষ্ট করেছে। বিভিন্ন জায়গায় টাকার বিনিময়ে সভা-সেমিনার হচ্ছে, বাজারে সিডি বিক্রি হচ্ছে, দেয়াল পোস্টারে ছেয়ে গেছে। ধরে নেয়া যায় সহজে টাকা উপার্জনের কথা আকৃষ্ট করেছে বহুজনকে। কারণ সম্ভবত এই প্রচারণায় ব্যবহৃত কয়েকটি শব্দ। ঘরে বসে, সহজে এবং টাকা উপার্জন। আসলে সহজে টাকা উপার্জনের বিষয়টা কতটা সহজ? কিংবা এর সম্ভাবনা কতটুকু?

ঘরে বসে টাকা উপার্জন সম্ভব
বলা হয় সারা বিশ্বের বড় বড় কোম্পানি প্রতিবছর তাদের প্রচারের জন্য ২৫০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে। সেই অর্থের কিছু অংশ এভাবে আপনার হাতে আসতেই পারে এবং ঘরে বসে টাকা উপার্জন সম্ভব। আপনিও সেটা করতে পারেন। ঘরে বসে যে পরিমাণ টাকা উপার্জন করা সম্ভব তা বাংলাদেশের হিসাবে অস্বাভাবিক রকমের বেশি। এক ভদ্রলোক (আমেরিকান) মাসে ১ লাখ ডলার আয়ের হিসাব দিয়েছেন।

অর্থ আয়ের শর্তসমূহ
সবচেয়ে বেশি যা আলোচিত হচ্ছে তা হচ্ছে গুগলের অফংবহংব এবং অফড়িত্ফং বিজ্ঞাপন। অর্থাত্ আপনার ওয়েব সাইটে বিজ্ঞাপনের লিংক থাকবে, সেখানে ক্লিক করলে আপনার একাউন্টে টাকা জমা হবে।
এডসেন্স এবং অ্যাডওয়ার্ড সম্পর্কে জানিয়ে রাখি। আপনি নিশ্চয়ই জানেন, গুগল বিশ্বের সেরা দশ ব্র্যান্ডের এক কোম্পানি। ইন্টারনেটের বিজ্ঞাপন বাজারের অধিকাংশ তার একার দখলে। তারা যা করে তা হচ্ছে অন্যদের ওয়েব সাইট ব্যবহার করে। অর্থাত্ তারা কোনো কোম্পানির কাছ থেকে টাকা নেবে তাদের প্রচারের জন্য। তাদের বিজ্ঞাপন দেয়া হয় আপনার ওয়েব সাইটে। কেউ সেই বিজ্ঞাপন ব্যবহার করলে আপনিও টাকা পাবেন। অর্থাত্ আপনার হাতে টাকা আসার কয়েকটি শর্ত রয়েছে। প্রথমত, আপনার ওয়েব সাইট থাকতে হবে। সেখানে প্রচুর পরিমাণ ভিজিটর আসতে হবে। তাদের বিজ্ঞাপনের লিংকে ক্লিক করতে হবে (অকারণে ক্লিক করা যাবে না, কারণ সেটা যাচাইয়ের ব্যবস্থা আছে)। এই শর্তগুলো ঠিক থাকলে আপনার ঘরে টাকা আসতে শুরু করবে। যত বেশি ক্লিক তত বেশি টাকা।

বিষয় ঠিক করে ভালো মানের
ওয়েবসাইট তৈরি করা
প্রথমে ওয়েবসাইট এবং ভিজিটরের বিষয়টি দেখা যাক। সারা বিশ্বের ব্লগ রয়েছে প্রায় ১৫০০ কোটি, বিশ্বের জনসংখ্যার প্রায় দ্বিগুণ। প্রতিদিন, প্রতিমুহূর্তে এই সংখ্যা দ্রুতহারে বাড়ছে। এই ভিড়ের মধ্যে আপনার ওয়েব সাইটে অন্যদের টেনে আনার জন্য আপনার ওয়েব সাইটে এমন কিছু থাকতে হবে যার আকর্ষণে প্রচুর পরিমাণ ভিজিটর আপনার সাইটে আসবেন। অর্থাত্ আপনার সাইটে গুরুত্বপূর্ণ এবং সাধারণের (বিপুল পরিমাণ মানুষের) জন্য উপকারী তথ্য থাকতে হবে। একটা কথা জানিয়ে রাখা ভালো, মানুষ পর্নোগ্রাফি জাতীয় বিষয়ে সবচেয়ে বেশি আগ্রহ দেখা, এ ধরনের সাইটে কিন্তু এ ধরনের বিজ্ঞাপন দিতে পারবেন না। কাজেই আপনার প্রথম কাজ ভালো একটি বিষয় ঠিক করে ভালো মানের ওয়েব সাইট তৈরি করা। এই ধাপ অতিক্রম না করে পরবর্তী ধাপে না যাওয়াই ভালো। অকারণে আপনার সাইটে হাজার হাজার ভিজিটর আসবে না।

টার্গেট ভিজিটর ঠিক করুন
কার জন্য ওয়েব সাইট তৈরি করবেন সেটাও আগেই ঠিক করে নিন। ব্রিটেনে ইন্টারনেট ব্যবহার করে শতকরা ৬০ ভাগ মানুষ, দক্ষিণ কোরিয়ায় ৯০ ভাগ, আর বাংলাদেশে কম্পিউটার ব্যবহার করা মানুষের সংখ্যা শতকরা ১ ভাগের নিচে। ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের সংখ্যা নগণ্য। কাজেই আপনার টার্গেট ভিজিটর কারা সেটা আগেই ঠিক করে নিন। বাংলাভাষীদের জন্য ওয়েবসাইট করলে স্বাভাবিকভাবেই আপনার ভিজিটর কম হবে। যদি আগে উল্লেখ করা ভদ্রলোকের মতো লাখ ডলার আয় করতে চান তাহলে সারা বিশ্বের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের কাছে যেতে হবে এবং এমন বিষয় থাকতে হবে যেখানে তারা আগ্রহ দেখাবেন। কোন সাইটগুলো মানুষ বেশি ব্যবহার করে, সেগুলোর বৈশিষ্ট্য কী ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে নিন। আপনার ওয়েব সাইটের সঙ্গে মিল রেখে যেহেতু বিজ্ঞাপন দেয়া হয় এবং সেই অনুযায়ী পেমেন্ট দেয়া হয় সেহেতু ওয়েব সাইটের বিষয়টিও মাথায় রাখুন। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ক্রিকেটের জন্য ওয়েব সাইটে প্রতি ক্লিকে হয়ত কয়েক সেন্ট পাওয়া যাবে, যেখানে অর্থনীতি বিষয়ে সাইটে পাওয়া যাবে কয়েক ডলার।
তাই আপনি যদি বিপুল পরিমাণ টাকা ঘরে বসে আয় করতে চান তাহলে আপনার সেই মানের ওয়েবসাইট পরিচালনা করতে হবে। এই কাজকে সহজ বলতেই পারেন, কারণ একজন কৃষকের মতো সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হাড়ভাঙা পরিশ্রম করতে হবে না।

আরও অনেক উপায়
আপনার যদি ওয়েবসাইট থাকে তাহলে এ ধরনের বিজ্ঞাপন ছাড়াও আরও অনেক ধরনের আয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। যেমন কোন কোম্পানির বিজ্ঞাপন সরাসরি আপনার সাইটে রাখতে পারেন টাকার বিনিময়ে। নিউইয়র্ক টাইমসের মতো পত্রিকাও অনলাইন বিজ্ঞাপনের কাছে হার মেনে বন্ধ হওয়ার মুখে। আপনি উদ্যোগ নিয়ে এদেশে আগে থেকেই নিজের অবস্থান ঠিক করে নিতেই পারেন।
আবার বিজ্ঞাপনের বাইরেও ইন্টারনেট ব্যবহার করে বহুরকম আয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। আপনি কোনো পণ্যের রিভিউ লিখতে পারেন। দৈনিক একটি করে রিভিউ লিখে মাসে কয়েক হাজার ডলার আয় করা সম্ভব। আপনি নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছেন কম্পিউটার, ক্যামেরা অথবা গেম, সফটওয়্যার, মুভি ইত্যাদি বাজারে আসার আগেই অনলাইন রিভিউ দেখা যায়। যারা রিভিউ লেখেন তাদের টাকা দিয়ে এ কাজ করানো হয়। আপনি যে বিষয়ে রিভিউ লিখতে আগ্রহী সেই বিষয়ে অবশ্যই পর্যাপ্ত জ্ঞান থাকতে হবে এবং অবশ্যই ইংরেজিতে দক্ষ হতে হবে (যতদিন না বাংলাদেশে বাংলায় এর প্রচলন হচ্ছে)। সরাসরি আপনার পক্ষে হয়ত কোনো কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব না। সে কারণে বহু প্রতিষ্ঠান রয়েছে যারা এ কাজে সহায়তা করে। তারা রিভিউ, ডাটা এন্ট্রি, সার্ভে ইত্যাদি কাজ সংগ্রহ করে আপনাকে দিতে পারে। এ জন্য তাদের কিছু ফি দিতে হয়। ইন্টারনেটে সার্চ করলেই এদের ঠিকানা পাবেন। তবে তারা সত্যিকারের সার্ভিস দেবে নাকি ফি হিসেবে দেয়া আপনার টাকা মেরে দেবে সেদিকে লক্ষ্য রাখবেন। ইন্টারনেটে ঠগবাজের কিন্তু অভাব নেই।

পিটিসি : খুব সহজ এবং খুব কঠিন
ক্লিক করলেই টাকা পাবেন, যত ক্লিক তত টাকা এভাবেই প্রচার করা হয় পিটিসির। কাজটি অত্যন্ত সহজ। পিটিসি সাইটে গিয়ে তাদের সদস্য হবেন (বিনামূল্যে)। এরপর তাদের নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট লিংকে ক্লিক করবেন। লিংক অনুযায়ী আপনার একাউন্টে টাকা জমা হবে। লিংকগুলো মূলত বিজ্ঞাপনের। যারা বিজ্ঞাপন দিয়েছেন তাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে আপনি ক্লিক করলে যে টাকা পাবেন তার বিনিময়ে তাদের বিজ্ঞাপন দেখবেন। এটুকু কাজ খুব সহজ। যদি এভাবে যথেষ্ট পরিমাণ আয় করতে চান তাহলে কঠিন বিষয় শুরু হয়।
বেশি আয়ের শর্তগুলো জেনে নিন। ধরুন ক্লিকসেন্সে আপনি সদস্য হলেন। আপনি দিনে কোন ধরনের কতগুলো ক্লিক করার সুযোগ পাবেন বিষয়টি অনেকগুলো শর্তের ওপর নির্ভর করে। সাধারণভাবে আপনি ১৫ থেকে ৩০টি ক্লিক করার সুযোগ পাবেন। এভাবে আপনার আয় হবে বড়জোর মাসে ৫ ডলার। আপনি যদি এ ধরনের ১০টি সাইটের সদস্য হন তাহলে সর্বোচ্চ ৫০ ডলার আয় করতে পারেন।
যদি অন্যকে সদস্য করে দিতে পারেন (বিনামূল্যের) তাহলে তিনি ক্লিক করলে তার ভাগও পাবেন। যতজনকে সদস্য করবেন আপনার আয় তত বেশি। বাস্তবে যদি ব্লগ/ওয়েবসাইট/ফেসবুক/ইমেইল ইত্যাদি ব্যবহার করে আপনি শত শত সদস্য সংগ্রহ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে তাদের মাধ্যমে আয় আপনার নিজের আয়ের বহুগুণ বেশি হবে। কাজটি সহজ না নিশ্চয়ই। আপনাকে জনপ্রিয় ব্লগ বা বহু ফলোয়ারসহ ফেসবুক অ্যাকাউন্ট রাখতে হবে।

আরও কিছু উপায়
আরেকভাবে আয় বাড়ানো যায়। আপনি টাকা দিয়ে বিনামূল্যের সদস্য থেকে প্রিমিয়াম সদস্যপদ নিতে পারেন। এর ফলে নিশ্চিতভাবে বেশি সংখ্যায় বেশি টাকার বিজ্ঞাপনে ক্লিক করার সুযোগ পাবেন। সেই সঙ্গে আপনার সদস্যের মাধ্যমে যারা সদস্য হবেন তাদের (ক্লিকসেন্সে ৮ লেভেল পর্যন্ত) তাদের টাকাও পাবেন। এই কাজগুলোর সবকিছু করলে আপনার পক্ষে পিটিসি থেকে হাজার ডলার আয় সম্ভব।
আরেকটি সমস্যার কথাও মাথায় রাখা ভালো। অনেক পিটিসি সাইট অত্যন্ত মনোলোভা বিজ্ঞাপন দেয়, কাজ করলে আপনার অ্যাকাউন্টে টাকা জমেছে সেটা দেখা যায় কিন্তু সেই টাকা পাওয়া যায় না। কাজেই কারও সদস্য হওয়ার আগে আপনার জেনে নেয়া প্রয়োজন সেই সাইট নির্ভরযোগ্য নাকি ভুয়া।
আরেকটি বড় সমস্যা, বাংলাদেশে পেপ্যালের মাধ্যমে টাকা পাওয়ার ব্যবস্থা না থাকা। অনেক পিটিসি সাইট কেবল পেপ্যালের মাধ্যমে টাকা দেয়। শুধু এ কারণেই আপনি অনেক পিটিসি সাইট ব্যবহারের সুযোগ পাবেন না। কাজেই আপনি বলতে পারেন, পিটিসি ব্যবহার করে ইন্টারনেটে আয় অত্যন্ত সহজ, আবার অত্যন্ত কঠিনও।

ফ্রিল্যান্সিং : সহজ এবং কঠিন
ফ্রিল্যান্সিং হচ্ছে ইন্টারনেটের মাধ্যমে কোনো কাজ নিয়ে করে দেয়া। আপনার দক্ষতা অনুযায়ী কাজ নেবেন এবং সেই অনুসারে টাকা পাবেন। যেমন ডাটা এন্ট্রি করলে পাবেন কম টাকা, গ্রাফিক্স ডিজাইন, ফ্লাশ এনিমেশন ইত্যাদি করলে পাবেন বেশি টাকা, ওয়েব ডিজাইন, প্রোগ্রামিং কাজে আরও বেশি টাকা।
একেবারে সহজ কাজ নিয়ে আলোচনা করা যাক। আপনি মাইক্রোসফট ওয়ার্ড ব্যবহার করতে জানলে ডাটা এন্ট্রির কাজ করতে পারেন। সে হিসাবে কাজ সহজ। যেহেতু ডলারে হিসাব করা হয়, ঘণ্টাপ্রতি ৪ ডলার আয় করলে দিনে ৫ ঘণ্টা হিসেবে মাসে ৫০০ ডলার আয় করতে পারেন। কখনও কখনও আরও বেশি।
কঠিন কাজ হচ্ছে কাজ পাওয়া। সাধারণ কাজ পাওয়া যায় ফ্রিল্যান্সিং সাইট থেকে। ফ্রিল্যান্সার, ওডেস্ক, স্ক্রিপ্টল্যান্স, গুরু ইত্যাদি সাইটে বিনামূল্যে সদস্য হওয়া যায়। তাদের সাইটে কাজের বর্ণনা দেয়া আছে। আপনি সেটা দেখে কত টাকায় কাজ করতে চান জানাবেন। যার কাজ তিনি আপনার যোগ্যতা পরীক্ষা করে নিশ্চিত হবেন, আপনি সেটা সময়মত করে দিতে পারবেন। তিনি অনুমতি দিলে আপনি কাজ করে পাঠিয়ে দেবেন, কাজের টাকা ফ্রিল্যান্সিং সাইটে জমা হবে। আপনি সেখান থেকে উঠিয়ে নিতে পারবেন।

যোগাযোগের সঠিক পদ্ধতি জানা দরকার
অনেকের জন্যই সমস্যা হচ্ছে কাজের জন্য যোগাযোগ করা। এ জন্য দক্ষতা প্রয়োজন। কোনো কাজ কত টাকায় করবেন সেটা ঠিক করা, তাদের সঙ্গে যোগাযোগের সময় ঠিকভাবে নিজের দক্ষতা জানানো ইত্যাদির জন্য যথেষ্ট ধৈর্য প্রয়োজন। বিশেষ করে নতুন অবস্থায় যখন আপনার নামের পাশে অভিজ্ঞতা লেখা নেই। কিছু কাজ ঠিকভাবে করার পর সেগুলো আপনার পরিচিতির সঙ্গে থাকে বলে পরবর্তীতে কাজ পাওয়া সহজ হয়।
কাজেই ফ্রিল্যান্সিং কাজ তুলনামূলক সহজ। দিনে কিছু সময় ব্যয় করে আপনি যথেষ্ট পরিমাণ টাকা উপার্জন করতে পারেন। কিন্তু যোগাযোগের কাজটি অনেকটাই কঠিন। এ জন্য সঠিক পদ্ধতি জানা, সব সময় লেগে থাকা, যোগাযোগ করার মতো ইংরেজি জানা ইত্যাদি প্রয়োজন হয়।
ইন্টারনেট থেকে আয়কে সহজ বলতেই পারেন। কিন্তু যখন ভালো ফল আশা করবেন কিংবা চাকরির বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করবেন তখন দিনের কিছু সময় ব্যয় করা যথেষ্ট না। বাস্তবতা হচ্ছে, ইন্টারনেটে আয়ের জন্য চাকরির থেকেও বেশি সময় ব্যয় করতে হয়। দিনে-রাতে সব সময় যোগাযোগ রক্ষা করতে হয়।
আপনি হয়ত লাখ টাকা বেতনের চাকরি আশা করতে পারেন না। ইন্টারনেটে কাজ করে লাখ টাকা আয় করা খুবই সম্ভব।

সাবধানতা অবলম্বন করুন
আপনি ঘরে বসে ইন্টারনেটে টাকা আয় করবেন এ জন্য অন্যকে টাকা দিয়ে সিডি কেনা, সেমিনারে যোগ দেয়া কিংবা ট্রেনিং করার প্রয়োজন নেই। তাদের কাছে সেটাই টাকা উপার্জনের সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি। ইন্টারনেট সার্চ করুন, দুনিয়ায় এমন কোনো তথ্য নেই যা পাবেন না। তবে যারা এই প্রচারণাকে সামনে এনেছেন তাদের ধন্যবাদ না জানালে অন্যায় করা হয়। তারা এটুকু দেখাতে পেরেছেন আমরা কীভাবে অন্ধকার ঘরে বসে রয়েছি। বাইরের জগত অনেক বড় এবং আমরা সহজেই তাতে অংশ নিতে পারি। নিজেরা লাভবান হতে পারি। সেই সঙ্গে সম্ভবত এটাও দেখিয়েছেন, প্রচারণায় অর্থলাভের বিষয় যুক্ত করে কি ফল পাওয়া যায়।

অনলাইন আয়ের জনপ্রিয় সাইট ।

অনলাইন আয়ের জনপ্রিয় সাইট

এম হারুন অর রশিদ

বিশ্বখ্যাত গার্টনারের প্রতিবেদনে আউটসোর্সিংয়ে বিশ্বের তৃতীয় সেরা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে ঢাকা। এ রিপোর্ট আউটসোর্সিংয়ে বাংলাদেশ সম্পর্কে উন্নত বিশ্বের ধারণা পাল্টে দিয়েছে। গত কয়েক বছরে আমাদের দেশে ফ্রিল্যান্সার আউটসোর্সারদের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে যথেষ্ট পরিমাণে। বাংলাদেশে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করার যে সব ওয়েবসাইট রয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে ডুল্যান্সার ডটকম (www.dolancer.com).

প্রতিষ্ঠাকাল
ডুল্যান্সার যুক্তরাষ্ট্রের ডেলোয়ার রাজ্যে নিবন্ধনকৃত একটি প্রতিষ্ঠান। উল্লেখ্য, এখান থেকে গুগল এবং ফেসবুকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোও নিবন্ধন নিয়েছে। ডুল্যান্সারের এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের সিইও রোকন ইউ আহাম্মেদ ডুল্যান্সার প্রসঙ্গে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্সের শিক্ষার্থী জুনিয়র প্রিস্টল জাগলার ডুল্যান্সার আউটসোর্সিং আইএনসি’র প্রতিষ্ঠাতা। তাদের প্রায় ৯টির মতো প্রজেক্ট রয়েছে, যার মধ্যে একটি হলো কর্পোরেট আউটসোর্সিং। যেখান থেকে তারা দুনিয়াব্যাপী বিভিন্ন কোম্পানিকে বড় এবং জটিল সফটওয়্যার ডেভেলপার কাজ দিয়ে থাকে। আমার প্রতিষ্ঠান ইনটুইট ইনফোসিস ওই সব প্রজেক্টে কাজ করত। জাগলারের সঙ্গে কাজের সূত্র ধরে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরপর যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় ডুল্যান্সার ডটকম। ডুল্যান্সার ডটকম প্রতিষ্ঠার পর এনবিসিসহ বিশ্বখ্যাত বেশকিছু মিডিয়ায় গুরুত্বের সঙ্গে সংবাদটি প্রকাশিত হয়।

যাদের আছে কাজের সুযোগ
ওয়েব ডিজাইনার, সফটওয়্যার ডেভেলপার, ডিজাইনারসহ নানা শ্রেণীর প্রশিক্ষিত এবং এমনকি যারা কেবল কম্পিউটার এবং ইন্টারনেট চালাতে পারে, তারাও ডুল্যান্সার (www.dolancer.com) থেকে নিয়মিত কাজ নিয়ে করছে এবং প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে। আর তাদের কাজের পরিমাণও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাদের মধ্যে অনেকেই কাজ করার পাশাপাশি ডুল্যান্সার থেকে কাজ সংগ্রহ করে অন্যদের দিয়েও করিয়ে নিচ্ছে। অর্থাত্ তারা উদ্যোক্তা হয়ে উঠছে। আউটসোর্সিংয়ে আগ্রহী নতুনদের জন্য ডুল্যান্সারে রয়েছে নানা ধরনের সুযোগ। এমনকি যারা প্রোগ্রামিং বা ডিজাইনের কাজও জানে না, তাদের জন্যও রয়েছে সুযোগ। ফ্রিল্যান্সার সেলস কনসালট্যান্টের জন্যও তাদের রয়েছে বিশেষ মডিউল। এ মাস থেকে চালু হয়েছে ‘ফোরাম পোস্টিং’ নামের বিশেষ একটি সার্ভিস। এটি সার্স ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের জন্য অত্যন্ত কার্যকরী একটি সার্ভিস। দ্রুত পেজ র্যাংকিংও বৃদ্ধি পায়। ডুল্যান্সার ডটকমের আছে দক্ষ ও অভিজ্ঞ ফ্রিল্যান্স ফোরাম, লেখক যারা ফোরামকে অতি দ্রুত জনপ্রিয় করে তুলতে পারে।

অনলাইন আয়ের পরিসংখ্যান
বৃহত্তম আউটসোর্সিং জাতি হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (৪০ শতাংশ) এবং যুক্তরাজ্য (১০ শতাংশ)। বৃহত্তম ফ্রিল্যান্সার জাতি ভারত (৩৪ শতাংশ), মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র্র (১১ শতাংশ) এবং শীর্ষ পাঁচটি প্রকল্প পিএইচপি, ওয়েবসাইট ডিজাইন, গ্রাফিক্স ডিজাইন, ডাটা এন্ট্রি এবং কপি রাইটিং। ঢাকা হলো আউটসোর্সিংয়ে তৃতীয় শহর। ভারতীয় এবং এশিয়ার ফ্রিল্যান্সার বাজারের সর্বাধিক ভাগ দখল করতে মার্চ ২০১২ থেকে ডুল্যান্সার ডটকম বৃহত্ পরিসরে প্রচার শুরু করতে যাচ্ছে। ২০১২ সালে ডুল্যান্সার ডটকম ৩ লাখ কাজ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
গুগল, অ্যামাজন, ফ্রিল্যান্সারসহ বিশ্বের জনপ্রিয় সব আউটসোর্সিং কোম্পানির মার্কেটিংয়ের প্রধান হাতিয়ার হচ্ছে রেফারাল সিস্টেম বা অ্যাফিলিয়েটস মার্কেটিং। এ ধারা অনুযায়ী ডুল্যান্সারেও বিষয়টি রয়েছে। উল্লেখ্য, ডুল্যান্সারে অ্যাফিলিয়েটস মার্কেটিং আরও বেশি ইউজার ফ্রেন্ডলি।

সাফল্যের কথা
আমজাদ হোসেন ৫২ বছর বয়সের বাংলাদেশী ফ্রিল্যান্সার, কাজ নেন ডুল্যান্সার ডটকম থেকে। তিনি বলেন, এটি নিজেকে স্বাধীন করার রাস্তা। আর ডুল্যান্সার আমাকে দিয়েছে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ। আমি গত ৭ মাসে কাজ করেছি মোট ১৭টি এবং ইনকাম করেছি ৪ লাখ টাকার মতো। তিনি বলেন, ফ্রিল্যান্সিং হলো কর্পোরেট পরিবেশে থেকে সম্পূর্ণভাবে মুক্ত জীবনে বাস করার একটি অনন্য উপায়। বর্তমানে আমি সত্যিই মুক্ত, ডুল্যান্সার ডটকমে এমনও হাজার সাফল্যের গল্প আছে।

ভবিষ্যতের ডুল্যান্সার
রোকন ইউ আহম্মেদ আরও বলেন, আমরা একটা টিম গঠন করতে সক্ষম হয়েছি, যেখানে আমরা অনলাইনে অনেক ট্যালেন্ট খুঁজে পাচ্ছি। এখন আমাদের এটা ধরে রাখতে হবে। ডুল্যান্সার বাংলাদেশে ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ফ্রিল্যান্সিং নামক একটা ট্রেনিং সেন্টার নিয়ে আসছে, যেখানে পিএইচপি, মাই এসকিউএল, ডিজাইন, লেখা, ফোরাম পোস্টিং ইত্যাদির ওপর বিশেষ প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। এরই মধ্যে ডুল্যান্সার সিঙ্গাপুরে একটা ডাটা সেন্টার গড়ে তুলেছে। যেখান থেকে ফ্রিল্যান্সাররা খুব কম খরচে ডেভেলপমেন্ট এবং টেস্টিংয়ের জন্য সার্ভার ভাড়া নিতে পারবে।

গেমস কর্নার : ওয়ার্ল্ড অব ওয়্যারক্রাফট : ক্যাটাকলিসম ।

হাসিব রেজা\r\nrony4455@gmail.com
বিশ্বের অসংখ্য গেমারদের কাছে জনপ্রিয় সিরিজ ওয়ার্ল্ড অব ওয়্যারক্রাফট। অসাধারণ কাহিনী এবং গেমপে সমৃদ্ধ সিরিজটির প্রতিটি ভার্সনই দারুণ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। সর্বশেষ রিলিজকৃত এ গেমটি রিলিজ পেয়েছে বিলিজ্জারড এন্টারটেইনমেন্টের ব্যানারে।
হাই-লেভেল ক্যারেক্টর সমৃদ্ধ ভার্সনটির এক্সপানশন প্যাকটিতে যুক্ত হয়েছে নতুন জোন। নতুন রেসগুলো বেশ মজার এবং আরও নতুনত্ব রয়েছে, তাছাড়া ভার্সনে প্রতিটি এলাকাকে আরও ভালোভাবে সাজানো হয়েছে। নতুন ভার্সনে যুক্ত হয়েছে বেশ কয়েকটি অপশন। এর মধ্যে গাইড লেভেলিং এবং রিওয়ার্ড সিস্টেম অন্যতম। সর্বশেষ এ ভার্সনে লেভেল এবং গিয়ার মার্জিন এসেছে যুদ্ধক্ষেত্র ও কারাগারগুলোর জন্য। যুক্ত হয়েছে গবলিন এবং ওরগন (ওয়ারউলফ) রেস। এর মধ্যে ওরজেন শুরু হয়েছে ইংল্যান্ডে এবং অন্যদিকে গবলিন যু্ক্ত হয়েছে ওয়্যারক্রাফট স্ট্যান্ডার্ডে। ক্যাটাকলিসম ভার্সনে রয়েছে ফিজিক্স টেকনোলজি, যার ফলে অ্যাকশনগুলো আরও বেশি রিয়েলিস্টিক। গেমটিতে রয়েছে মোট ১২টি রেস এবং ২০টি ক্যারেক্টর। নতুন সংযুক্ত হয়েছে প্রত্নতাত্ত্বিকবিদ। গেমটিতে রয়েছে আনলক সুবিধা, যার মাধ্যমে গেমার লেভেল সম্পন্ন করে আবার জোন আনলক করতে পারবেন। পাশাপাশি গেমারদের সুবিধার জন্য যুক্ত হয়েছে বিভিন্ন অপশন। এর মধ্যে অন্যতম ম্যাপিং সিস্টেম। গেমার বিভিন্ন ক্ষেত্র ম্যাপিং সিস্টেমের মাধ্যমে চিহ্নিত করতে পারবেন। পাশাপাশি রাতের মিশন এবং বিভিন্ন সিকোয়েন্সে অনস্ক্রিনে সুবিধা রয়েছে গেমারের জন্য। রয়েছে লাইটিং সিস্টেম, এর মাধ্যমে জানা যাবে গেমার কতটুকু দূরত্বে অবস্থান করছেন। গেমটির আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বেশ ভালো, কাজেই বেশ বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে। তাছাড়া গেমারের দক্ষতার উপরে অনেকাংশে নির্ভর করবে বিভিন্ন বিষয়াদি। বিভিন্ন ক্ষেত্রে গেমার অন্যদের পারফরমেন্স দেখে নিজস্ব করণীয় বেছে নিতে পারবেন। স্ক্রিনের একাংশে গেমার অন্য গেমারদের কর্মকাণ্ড লক্ষ্য করতে পারবেন। গেমটির আরেকটি মজার দিক হলো, এতে সংযুক্ত হয়েছে নতুন দুটি যুদ্ধক্ষেত্র, এখানে একজন গেমার আরেকজন গেমারের বিরুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। রয়েছে ব্যাটল ফর গিলনিয়াস। এখানে দুটি দলে মোট ১০ জন গেমার একত্রে অংশগ্রহণ করতে পারবেন মাইন, লাইট হাউস এবং ওয়াটার ওয়াকর্সের জন্য। আবার রয়েছে টল বারাদ নামক নতুন আইসল্যান্ড। বিশাল মাপের এ যুদ্ধক্ষেত্রের আকার বড় এবং এখানে বিশাল আকারের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এ যুদ্ধের মাধ্যমে বড় আকারের পিভিপি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পারবেন।

আয় রোজগারে আউটসোর্সিং ।

আউটসোর্সিং। তথ্য-প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বহুল ব্যবহৃত শব্দ এটি। বিভিন্ন দেশের তরুণরা আউটসোর্সিং থেকে অনেক অর্থ উপার্জন করছে। বাংলাদেশের তরুণরাও এবার এ ব্যবসায় সাফল্য পেতে শুরু করেছে। আউটসোর্সিং পেশা ও এর সম্ভাবনা নিয়ে লিখেছেন

কী এই আউটসোর্সিং?
আমেরিকা-ইউরোপের যেসব কোম্পানি তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে কাজ করে, তারা তাদের কাজের বড় একটা অংশ অন্য দেশের কর্মীদের দিয়ে করিয়ে থাকে। অর্থ বাঁচানোই এর প্রধান উদ্দেশ্য। কারণ অন্য দেশের কর্মীদের কম টাকা দিয়েই কাজ করানো যায়। এক্ষেত্রে তাদের প্রথম পছন্দ ভারত, শ্রীলঙ্কা, চীন, ফিলিপাইন ও ভিয়েতনামের জনশক্তি। এখন অবশ্য এসব নামের সঙ্গে বাংলাদেশের নামও ঢুকে গেছে।

বিশ্ব তালিকায় বাংলাদেশ
গত বছরের ডিসেম্বরে বিখ্যাত গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘গার্টনার’ একটি তালিকা তৈরি করেছে। সেখানে আউটসোর্সিংয়ের জন্য ভালো এমন ৩০টি দেশের নাম আছে। বাংলাদেশ তাদের মধ্যে একটি। ফলে যেসব কোম্পানি আউটসোর্সিংয়ের জন্য লোক খুঁজে, তারা বাংলাদেশকেও তাদের অন্যতম পছন্দের তালিকায় রাখছে। গার্টনার বলছে, সস্তা শ্রম আর পর্যাপ্ত জনশক্তি—এই দুটি কারণে বাংলাদেশ আউটসোর্সিংয়ের জন্য সম্ভাবনাময় একটি দেশ। জানা গেছে, এখন পর্যন্ত যেসব কোম্পানি বাংলাদেশ থেকে আউটসোর্সিং করিয়ে নিয়েছে তারা বাংলাদেশী তরুণদের কাজে সন্তুষ্ট। তাই তারা বারবার বাংলাদেশেই ফিরে আসছে। যেমন ডেনমার্কের একটা বড় কোম্পানি গত পাঁচ বছর ধরে বাংলাদেশকেই কাজ দিচ্ছে বলে জানা গেছে।
আর পর্যাপ্ত জনশক্তির যে বিষয়টা গার্টনার বলছে তা হলো—বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৬৫ ভাগের বয়স ২৫-এর নিচে। অর্থাত্ তারা তরুণ। এরাই তথ্যপ্রযুক্তির ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো করে। সুতরাং এই তরুণদের যদি ভালোভাবে প্রশিক্ষণ দেয়া যায় তাহলে আউটসোর্সিং থেকে বাংলাদেশ অনেক অর্থ আয় করতে পারবে।
বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৫০০ নিবন্ধিত আউটসোর্সিং কোম্পানি রয়েছে। যেখানে কাজ করেন প্রায় বিশ হাজার দক্ষ লোক।

কীভাবে তথ্য পাবেন
ব্যক্তিগতভাবেও ইচ্ছে করলে যে কেউ আউটসোর্সিংয়ের কাজ করতে পারে। এরই মধ্যে এ ধরনের একটা জনশক্তি দাঁড়িয়ে গেছে বাংলাদেশে। যারা এভাবে কাজ করেন তাদের বলা হয় ‘ফ্রিল্যান্সার’। বর্তমানে বাংলাদেশে ফ্রিল্যান্সারের সংখ্যা প্রায় ৩০ হাজার। এদের অর্ধেকই নিয়মিত আউটসোর্সিংয়ের কাজ করে থাকে। একেকজন ফ্রিল্যান্সার এ থেকে প্রতি মাসে বেশ ভালো একটা অর্থ আয় করতে পারে, যেটা দিয়ে পরিবারের খরচ চালিয়েও ভালো একটা অঙ্ক জমা করা যেতে পারে।
এমনই একজন হলেন আবদুল্লাহ আল জাহিদ, যাকে গত বছরের সেরা ফ্রিল্যান্সার হিসেবে পুরস্কার দিয়েছে বেসিস। মাত্র ১৬ বছর বয়সি জাহিদ আউটসোর্সিং থেকে মাসে গড়ে আয় করছেন প্রায় ৭০ হাজার টাকা। ফলে এই বয়সেই তিনি তার পরিবারের প্রধান আয়ের উত্স হয়ে গেছেন।

আউটসোর্সিংয়ে কাজের পরিধি
দিন দিন বেড়েই চলছে আউটসোর্সিং কাজের পরিধি। কয়েক বছর আগেও আউটসোর্সিংয়ের বৈশ্বিক মানচিত্রে বাংলাদেশের নাম ছিল না। সেখানে এই পরিস্থিতির উন্নতি ঘটেছে। দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিশেষজ্ঞদের মতে, সুলভ মূল্যে দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়া সম্ভব হলে দ্রুত সমৃদ্ধ হবে আমাদের আউটসোর্সিং সংস্কৃতি। ভারতে এমনকি আমাদের দেশের ছাত্ররাও আউটসোর্সিংয়ে কাজ করছে। কিন্তু বর্তমানে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রছাত্রীর জন্য পর্যাপ্ত ইন্টারনেট সুবিধার সুযোগ নেই। বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে নেই ইন্টারনেট সংযোগ। দ্রুতগতির ইন্টারনেট সুবিধা, বিদ্যুত্সহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা সম্ভব হলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রধান খাতে পরিণত হতে পারে আউটসোর্সিং।

আউটসোর্সিংয়ের রকমফের
বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন ধরনের আউটসোর্সিং রয়েছে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে— বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং (বিপিও), কো-সোর্সিং, ইঞ্জিনিয়ারিং প্রসেস আউটসোর্সিং (ইপিও), ফার্মশোরিং, হোমশোরিং, ইনসোর্সিং, নলেজ প্রসেস আউটসোর্সিং (কেপিও), লিগ্যাল প্রসেস আউটসোর্সিং (এলজিও), নিয়ারশোরিং, ইনফরমেশন টেকনোলজি আউটসোর্সিং, অফশোর আউটসোর্সিং, অফশোর সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, অফশোরিং আইটি সার্ভিসেস, প্রিন্ট অ্যান্ড মেইল আউটসোর্সিং, রিক্রুট প্রসেস, আউটসোর্সিং, সোশ্যিয়ালি রেসপন্সিবল আউটসোর্সিং।

আপনিও আউটসোর্সিং করতে পারেন
এখন মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, কীভাবে আপনিও আউটসোর্সিং করতে পারেন? আর এর জন্য কী যোগ্যতাই বা থাকা দরকার। এ ব্যাপারে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে নানা তথ্য পেতে পারেন।
ফ্রিল্যান্সার ডটকম, ওডেস্কসহ অন্য যে কোনো আউটসোর্সিং বিষয়ক ওয়েব সাইটে ঢুকলে দেখা যায় বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক কাজের ছড়াছড়ি। ফ্রিল্যান্সারদের জন্য এত বেশি কাজের অফার রয়েছে যে আপনি কোনটা ছেড়ে কোনটা করবেন। তবে সংশ্লিষ্ট কাজের দক্ষতা থাকা চাই। আউটসোর্সিংয়ে বিশ্বখ্যাত কয়েকটি ওয়েব সাইটে প্রদর্শিত কাজের শিরোনাম থেকে এখানে কিছু উল্লেখ করা হলো।
http://www.freelancer.com
http://www.freelanceroutsource.com
http://www.vworker.com
http://www.microworkers.com
http://www.mochimedia.com
http://www.elance.com
http://www.ifreelance.com
http://www.outsourcexp.com
http://www.odesk.com
এছাড়াও বিভিন্ন সার্চ ইঞ্জিনে গিয়ে ফ্রিল্যান্সিং আউটসোর্সিং লিখে সার্চ দিলেও অনেক ওয়েবসাইটের খোঁজ মিলবে।

অনলাইনে আয়ের ১০০ উপায় ।

আমার দেশ ‘বিজ্ঞান ও কম্পিউটার’ পাতায় নিয়মিতভাবে ছাপা হচ্ছে—অনলাইন আয়ের ১০০টি টিপস শীর্ষক টিউটোরিয়াল পর্ব। এসব বিষয়ে নিয়মিত লিখছেন—আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেসে সফল ফ্রিল্যান্সার, বিভিন্ন কর্মশালা-প্রশিক্ষণ পরিচালনাকারী ও ব্লগার—মো. ইকরাম
আগ্রহী যারা ফ্রিল্যান্সিংয়ে ক্যারিয়ার গড়তে চান, চোখ রাখুন প্রতি মঙ্গলবার।
(পর্ব ৪)

অ্যাফিলিয়েশনের মাধ্যমে আয়
অনলাইনে আয়ের মাধ্যমগুলোর মধ্যে এক অনন্য ও বিশ্বস্ত নাম হচ্ছে অ্যাফিলিয়েশন। অনলাইন থেকে আয়ের বিভিন্ন ট্রেডের মধ্যে অন্যতমই বলব এটাকে। এখান থেকে আয়ের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা যে কোনো ব্যবসার ক্ষেত্রে সাধারণত বিভিন্ন ডিলার/পাইকারি ব্যবসায়ীকে দেখেছি যারা কোনো নির্দিষ্ট নামকরা কোম্পানির বিভিন্ন প্রোডাক্টস কমিশনের (% আকারে) ভিত্তিতে বিক্রি করে দেন। এইসব ব্যবসার ক্ষেত্রে বিক্রি করে দেয়ার শর্তে ডিলার/পাইকাররা কোম্পানি থেকে নির্দিষ্ট মাত্রায় (% হারে) কমিশন নিয়ে থাকে। যেমন ধরুন, স্যামসাং কোম্পানি তাদের মনিটর বিক্রি করবে। সেটা তারা নিজেরা সরাসরি বিক্রি করে না, বিভিন্ন পাইকারের মাধ্যমে বিক্রি করে। পাইকাররা এই মনিটর বিক্রি করে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ কমিশন পেয়ে থাকেন। যে কোনো ব্যবসা এভাবেই ঘটে থাকে। ই-কমাসের্র এই যুগে সেটাই হয়ে থাকে অনলাইনে। আর ব্যবসার এই অনলাইন রূপটাকেই Affiliate বলে।
অ্যাফিলিয়েশন হচ্ছে এমনই একটি প্রোগ্রাম, যার মাধ্যমে কোনো ওয়েবসাইট যারা নিজের ওয়েবসাইটে কোনো কোম্পানির বিভিন্ন প্রোডাক্টস অ্যাডস হিসেবে ব্যবহারের মাধ্যমে ওই কোম্পানিকে বিভিন্ন প্রোডাক্টস অনলাইনে বিক্রি করে দেয়ার শর্তে কমিশন ভিত্তিতে কাজ করে থাকে। এই সাইট থেকে রেফারেল হয়ে যদি কোম্পানির প্রোডাক্টস কেউ কেনে তবে কোম্পানি তাদের দেয়া শর্ত অনুযায়ী তাকে কমিশন দিতে বাধ্য থাকে। আর এটাই হচ্ছে অ্যাফিলিয়েশন। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন কোম্পানির বিভিন্ন প্রোডাক্টস নিয়ে অ্যাফিলিয়েশন করতে দেখা যায়। যেমন : বিভিন্ন খেলার লাইভ ওয়াচ, মুভি লাইভ ওয়াচ, কলিং কার্ড, আরও বিভিন্ন নিত্যদিনের প্রোডাক্টস। এটাকে আমরা এমন প্রোগ্রাম বলতে পারি, যা দিয়ে পরোক্ষ মাধ্যমে ইন্টারনেটে বাজার পরিচালনা করা হয়। বর্তমানে ওয়েবসাইট অ্যাফিলিয়েশন ইন্টারনেট মার্কেটিংকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। সঙ্গে সঙ্গে উন্মুক্ত করে দিয়েছে অনলাইনে আয়ের বিশাল এক সম্ভাবনাকে।
ওয়েবসাইট অ্যাফিলিয়েশন সম্পর্কে আরও কিছু তথ্য
বিশ্বে ১৯৯০ সালের দিকে সর্বপ্রথম ওয়েবসাইট অ্যাফিলিয়েশন প্রোগ্রাম চালু হয়। এখানে অ্যাফিলিয়েশন প্রোগ্রামগুলোতে কোনো একটি কোম্পানি তার পণ্যের বিজ্ঞাপন লিংক বা ব্যানার আকারে অন্য একটি ওয়েবসাইটে অ্যাড হিসেবে দিয়ে থাকে। এই ব্যানার অ্যাডের মাধ্যমে ওই কোম্পানির পণ্যের যে পরিমাণ বিক্রি হয়, তার ভিত্তিতে কোম্পানি ওই ওয়েবসাইটকে তাদের নির্দিষ্ট হারে কমিশন দিয়ে থাকে। কিন্তু এই কমিশন অধিকাংশ ক্ষেত্রে ৭৫ শতাংশেরও বেশি হয়, যা আসলে খুবই ভালো একটা আয় হয়ে দাঁড়ায়। এটির মাধ্যমে অনেকে প্রতি মাসে এক লাখ টাকা থেকে আমার দেখা সর্বোচ্চ ৭ লাখ টাকাও আয় করছেন। প্রযুক্তি ও মার্কেট নিয়ে গবেষণাকারী প্রতিষ্ঠান ফরেস্টার রিসার্চের মতে, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হচ্ছে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কার্যকর অনলাইন মার্কেটিং পদ্ধতি। তবে এটাও মানতে হবে যে, এখানে হিউজ আয়ের একটা সম্ভাবনা রয়েছে। অ্যাফিলিয়েশন বর্তমান সময়ে অনলাইন আয়ে বড় একটা পথ উন্মোচন করছে।
এখানে কিছু অ্যাফিলিয়েট সাইট আছে, যেখান থেকে আপনি তাদের অ্যাফিলিয়েট মেম্বার হিসেবে কাজ করতে পারবেন। আসুন দেখে নিই সাইটগুলো—
http://www.amazan.com, http://www.marketbay.com
http://www.clickbank.com, http://www.linkshare.com
http://www.plimus.com, http://www.sellhealth.com
আপনাকে এই পদ্ধতিতে আয় করতে হলে SEO, internet marketing ভালোভাবে জানতে হবে। আপনি যেই প্রোডাক্টসের অ্যঅফিলিয়েশন করছেন, কেউ যদি সেই প্রোডাক্টস গুগলে সার্চ দেয় এবং তখন যদি আপনার ওয়েবসাইট সার্চ ফলাফলে আগে দেখা যায়, তাহলে আপনার কাছ থেকে সেই প্রোডাক্টস বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যাবে। আর পণ্য বিক্রি হলে কমিশন পাবেন। সুতরাং বেশি বেশি পণ্য বিক্রি করার জন্য আপনার ওয়েবসাইটকে ঝঊঙ-এর মাধ্যমে গুগলের সার্চ ফলাফলের ওপরের দিকে আনতে হবে।
http://www.seotrainingbd.com

নতুন রূপে প্রিন্ট ভাইরাস ।

মো. ফারুক হোসেন
উইন্ডোজ কম্পিউটারের সঙ্গে যুক্ত প্রিন্টার সম্প্রতি এক নতুন ধরনের ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে। এটির নাম ট্রোজান মিলিসেনসো (Trojan Milicenso)। এই ভাইরাস আক্রান্ত কম্পিউটার থেকে প্রিন্ট দিলে প্রিন্টারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অপ্রয়োজনীয় ডেটাসহ পেজ প্রিন্ট হতে থাকে। সাম্প্রতিক এই তথ্যটি জানিয়েছে কম্পিউটার সিকিউরিটি গবেষক অ্যান্টিভাইরাস ফার্ম-সিমেনটেক।
গত জুনের মাঝামাঝিতে স্যান্স (SANS) ইন্টারনেট স্টর্ম সেন্টার (ISC) প্রিন্ট ভাইরাসের এই বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে এটিকে প্রিন্ট বম্ব হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল। তারা জানিয়েছে, এই প্রিন্ট বম্ব এক্সিকিউটেবল ফাইলের কনটেম্লট প্রিন্ট করে বলে মনে হচ্ছে। স্যান্স আইএসসির বিশেষজ্ঞরা প্রিন্ট করা ফাইলের একটি কপি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রকাশ করেছিল যে, এটি একটি অ্যাডওয়্যার প্রোগ্রামের অংশ। অ্যাডওয়্যার হলো এমন একটি প্রোগ্রাম, যা অথোরাইজেশন ছাড়াই কোনো বিজ্ঞাপন ডিসপ্লে করে। কিছু অ্যান্টিভাইরাস অ্যাডওয়্যারকে অ্যাডওয়্যার ডট ইয়োরোজো (Adware.Eorezo) হিসেবে শনাক্ত করে।
সিমেনটেকের বিশেষজ্ঞরাও আনঅথোরাইজ প্রিন্ট আউটের রিপোর্ট বিশ্লেষণ করেছে। তারাও জানিয়েছে, আক্রান্ত কম্পিউটারে অ্যাডওয়্যার ইয়োরোজো ফাইল রয়েছে ট্রোজান ডট মিলিসেনসো রূপে। ট্রোজান মিলিসেনসো প্রথম আবির্ভূত হয়েছিল ২০১০ সালে। তবে গত দুই সপ্তাহ ধরে এর প্রাদুর্ভাব নতুন করে দেখা দিয়েছে বলে নিজেদের ব্লগ স্পটে প্রকাশ করেছে সিমেনটেক সিকিউরিটি রেসপন্স টিম। ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইন্ডিয়াতেও তাদের টেলিমেট্রি ডেটা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সিমেনটেকের গবেষকেরা। তারা মনে করেন, ইউজারকে ফ্রেঞ্চ ল্যাঙ্গুয়েজে রি-ডিক্টেকারি অ্যাডওয়্যার ইয়োরেজোই ট্রোজান মিলিসেনসো রূপে আবির্ভূত হয়েছে ব্যবহারকারীকে ধোকা দেয়ার জন্য। তারা আরও বলেছেন, ট্রোজান মিলিসেনসো বিভিন্নভাবে ছড়াতে পারে। যেমন, ক্ষতিকারক ইমেইল অ্যাটাচমেন্ট হিসেবে, কোনো ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড অথবা সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং স্ক্যাম দ্বারা ভুয়া কোডেক বিজ্ঞাপন হিসেবে।
কম্পিউটারে আক্রমণ করার পর এই ভাইরাস অ্যাডওয়্যার ইয়োরেজো ফাইলের একটি কপি ডট এসপিএল (.spl) এক্সটেনশন হিসেবে বিভিন্ন নামে উইন্ডোজ প্রিন্টার স্পুল ডিরেক্টরিতে রেখে দেয়। উল্লেখ্য, ডট এসপিএল হলো উইন্ডোজ প্রিন্টার স্পুল ফাইল। এটি উইন্ডোজের %SystemRoot%\System32\Spool\Printers লোকেশনে থাকে। ডট এসপিএল এক্সটেনশনের ফাইল হওয়া সত্ত্বেও ভাইরাস আক্রান্ত ফাইলটি প্রকৃতপক্ষে একটি এক্সিকিউটেবল ফাইল। সাধারণত প্রিন্ট করা হবে এমন ফাইলগুলোকে অস্থায়ীভাবে ধারণ করে উইন্ডোজের স্পুল ডিরেক্টরি, যদিও কিছু প্রিন্টার কাস্টম স্পুল ডিরেক্টরি ব্যবহারের সুবিধা দেয়। তবে বেশিরভাগ কনফিগারেশনই উইন্ডোজের ডিফল্ট স্পুল ডিরেক্টরি ব্যবহার করে। এর ফলে সংক্রমিত কম্পিউটারের সঙ্গে যুক্ত প্রিন্টার নতুন মিলিসেনসো ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয় এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডট এসপিএল ফাইলের কনটেম্লট প্রিন্ট করে। অনেক সময় পেপার শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রিন্ট হতে থাকে।
এ পর্যন্ত যতটুকু পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে তার ওপর ভিত্তি করে বলা যায়, বিকৃত প্রিন্ট আউট ইনফেকশন ভেক্টরের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বলেই মনে হচ্ছে; অর্থাত্, এই ভাইরাস প্রোগ্রামের লেখক তার লক্ষ্যে পুরোপুরি সফল হতে পারেনি বলে জানিয়েছেন সিমেনটেকের গবেষকরা। অপরদিকে স্যান্স আইএসসির বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এই ট্রোজান প্রোগ্রামটিকে খুবই কমসংখ্যক অ্যান্টিভাইরাস শনাক্ত করতে পারে। তাই আনঅথোরাইজড কোনো প্রিন্টের বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হলে ট্রোজান মিলিসেনসো এবং অ্যাডওয়্যার ইয়োরেজোকে শনাক্ত করতে পারে এমন অ্যান্টিভাইরাস দিয়ে সেটিকে স্ক্যান করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
farooque.hossain@thakral-bd.com

অনলাইনে আয়ের নান উপায় ।

এম. হারুন অর রশিদ
ইন্টারনেট ব্যবহার করে অনেকভাবে অর্থ উপার্জন করা যায়। কেউ অন্য কাজের পাশাপাশি ইন্টারনেট থেকে অতিরিক্ত আয় করেন, কেউ একেই পেশা হিসেবে ব্যবহার করেন এবং অন্য পেশার থেকেও বেশি আয় করেন। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন থাকতে পারে—আয়ের বিভিন্ন পথের মধ্যে কোনটি বেশি গ্রহণযোগ্য, কিংবা লাভজনক?
এককথায় এর উত্তর দেয়া কঠিন। ওয়েব ডিজাইন করলে বহু টাকা আয় করা যায়, কিন্তু সেটা সবার পক্ষে সম্ভব নয়। ডাটা এন্ট্রি বা টাইপিং সে তুলনায় সহজ কাজ। আবার কারও কারও পক্ষে সেটাও সম্ভব হয় না বিভিন্ন কারণে। কারও কাছে নিজস্ব ব্লগ তৈরি করা লাভজনক। ব্লগ জনপ্রিয় হলে সেখানে বিজ্ঞাপন রেখে যথেষ্ট পরিমাণ আয় করা যায়। তবে ইন্টারনেটে আয়ের বিভিন্ন পথগুলোর মধ্যে কিছু হলো—

ফ্রিল্যান্সিং বা অনলাইন কাজ
যদি বিশেষ কাজে দক্ষতা অর্জন করে সেই কাজ নিয়ে থাকতে চান তাহলে আয়ের সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি ফ্রিল্যান্সিং বা অনলাইনে কাজ করা। ডাটা এন্ট্রি, গ্রাফিক ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন, প্রোগ্রামিং—সব ধরনের প্রচুর কাজ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে ইন্টারনেটে। কাজের মজুরি ডলারে, কাজেই স্থানীয় কাজ থেকে তুলনামূলক বেশি। উদাহরণ হিসেবে একটি লোগো ডিজাইন করে পেতে পারেন ১০ থেকে ১০০ ডলার কিংবা আরও বেশি। এক পৃষ্ঠা টাইপ করে পেতে পারেন ২ থেকে ৫ ডলার। বিভিন্ন ওয়েবসাইট এ রকম কাজ পেতে সহায়তা দেয়। ফ্রিল্যান্সার, স্ক্রিপ্টল্যান্স, গুরু, ওডেস্ক এ ধরনের সাইট। তাদের সদস্য হওয়া যায় বিনামূল্যে। তবে কাজ করলে অর্থ প্রদানের সময় তারা সামান্য ফি কেটে নেয়।

মাইক্রো-জব
মাইক্রো-জবকে ফ্রিল্যান্সিংয়ের সঙ্গে তুলনা করতে পারেন। পার্থক্য হচ্ছে, এই কাজগুলো খুব সহজ। সহজ কিছু প্রশ্নের উত্তর দেয়া। কোনো লিস্টে কয়েকটি বিষয়ের মধ্যে নির্দিষ্ট বিষয় সিলেক্ট করা, ছবির সঙ্গে মানানসই নাম দেয়া, কিছু ডাউনলোড করা ইত্যাদি উদাহরণ হিসেবে দেখতে পারেন।

ব্লগিং
গুগলের বিনামূল্যের ব্লগিং ব্যবস্থা ব্লগার ব্যবহার করে যে কোনো বিষয়ে একটি ব্লগ তৈরি করে যথেষ্ট পরিমাণ আয় করা যেতে পারে। ব্লগে ভিজিটর যত বেশি আয়ের সম্ভাবনা তত বেশি। এজন্য শুরুতে একটি বিষয় বেছে নেয়া প্রয়োজন। ইন্টারনেটে খোঁজ করে ব্লগের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে ধারণা পেতে পারেন। বস্তুত বিষয়ের কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। যার যে বিষয়ে আগ্রহ তিনি সেই বিষয়ে ব্লগ তৈরি করতে পারেন। এমনকি ছবি ওঠানোর শখ থাকলে ওঠানো ছবিগুলো রেখেই ব্লগ তৈরি করা যায়। ব্লগ তৈরির পর গুগলের এডসেন্সসহ অন্যান্য বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্কের সদস্য হয়ে ব্লগে বিজ্ঞাপন যোগ করা হয়। বিভিন্ন কোম্পানির অ্যাফিলিয়েশন নিয়ে তাদের লিংক রাখতে হয়। ভিজিটর যখন সেই বিজ্ঞাপন বা লিংকে ক্লিক করবেন তখন ব্লগার টাকা পান। শুধু ক্লিক করার জন্য টাকা, কিছু কিনলে কমিশন, সদস্য হলে কমিশন ইত্যাদি নানাভাবে আয় আসতে থাকে। ব্লগারের মূল কাজ বেশি ভিজিটর আনার ব্যবস্থা করা।

লেখালেখি করে আয়
ইন্টারনেটে ব্লগ বা ওয়েবসাইট রয়েছে বহু কোটি। তাদের প্রত্যেকের পক্ষে সবকিছু নিজেদের পক্ষে লেখা সম্ভব হয় না। সব সময়ই তারা টাকা দিয়ে লেখা সংগ্রহ করেন। কিছু প্রতিষ্ঠিত সাইট রয়েছে, যারা বিভিন্ন পণ্যের রিভিউ লেখার সুযোগ করে দেয় এবং রিভিউপ্রতি ২০ থেকে ৪০ ডলার দেয়। কখনও কখনও সেই লেখা থেকে যা আয় হয়, তার ৪০ থেকে ৫০ ভাগ লেখককে দেয়া হয়। এ ধরনের কাজ পাওয়া তুলনামুলক সহজ। প্রায় সব ওয়েববসাইট যেহেতু ইংরেজিতে সেহেতু লিখে আয় করার জন্য ইংরেজিতে দক্ষতা প্রয়োজন হয়। এটাই মূল যোগ্যতা। এরপর যে বিষয়ে লিখতে হবে, সে বিষয়ে তারা তথ্য দিয়ে সহায়তা করেন অথবা ইন্টারনেট থেকেই তথ্য সংগ্রহ করা যায়।

টেমপ্লেট ডিজাইন
টেমপ্লেট ডিজাইন হলো কোনো ওয়েবসাইট তৈরির প্রাথমিক ধাপ। ধরুন, আপনি ভ্রমণসংক্রান্ত একটি ওয়েবসাইট করতে যাচ্ছেন। এক্ষেত্রে বিভিন্ন ছবি ও তথ্য ওয়েবপেজের কোন জায়গায় কতটুকু যাবে, তার একটি প্রাথমিক ডিজাইন এই টেমপ্লেট। তাই আয়ের একটি ভালো পথ হলো টেমপ্লেট ডিজাইন তৈরি। বিভিন্ন টেমপ্লেটের নমুনা দেখতে ভিজিট করুন :
http://www.freewebsite templates.com, http://www.joomladesigns.co.uk.

সার্ভে করে আয়
বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নানা কারণে জনমত জরিপ করে। বর্তমানে ইন্টারনেটের কল্যাণে এ কাজ অনেক সহজ। ফলে যে কেউ ইচ্ছা করলেই এতে অংশ নিয়ে টাকা আয় করতে পারেন। কাজটি তুলনামূলক সহজ। তারা নির্দিষ্ট কিছু প্রশ্ন দিয়ে দেন, সেগুলোর ভিত্তিতে উত্তর সংগ্রহ করতে হয়।
সমস্যা হচ্ছে, সব দেশে সমানভাবে এই কাজ পাওয়া যায় না। অনেকে নির্দিষ্ট করে বলে দিতে পারেন ইউরোপ-আমেরিকার কথা, কিংবা বিপরীতভাবে বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য নয় এমন কথা।

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজিং
সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজিং বা এসইও প্রযুক্তি ব্যবহার করে সার্চ রেজাল্টে কোনো ওয়েবসাইটের অগ্রাধিকার ঠিক করা সম্ভব। যেমন—কোনো কোম্পানির শিক্ষাবিষয়ক একটি সাইট আছে। তারা চাচ্ছে, গুগল সার্চের ফলাফলে তাদের সাইটটি শুরুর দিকে থাকুক। এক্ষেত্রে এসইও জানা থাকলে তা করা সম্ভব। বিস্তারিত জানতে ভিজিট করতে পারেন : en.wikipedia.org/wiki/search-engine-optimization

গ্রাফিক ডিজাইন
যদি গ্রাফিক ডিজাইন জেনে থাকেন তবে এ দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে অনলাইনের বিভিন্ন সাইট থেকে কাজ বাগিয়ে নিতে পারেন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের লোগো, প্যাড, বিজনেস কার্ড, লেটার হেড করতে গ্রাফিক ডিজাইনে জ্ঞান প্রয়োজন। গ্রাফিক ডিজাইনসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য জানতে দেখতে পারেন :
http://www.graphicdesign.aboutcom, http://www.graphic-design.com, http://www.graphiccompetitions.com

অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপার
বর্তমান প্রজন্মের কাছে অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট জনপ্রিয় হচ্ছে। ধরি আপনি একটি সাইট করলেন যেখানে ইংরেজি থেকে বাংলা এবং বাংলা থেকে ইংরেজি অনুবাদ করা যায়। আপনি যদি সাইটটি আপলোড করেন তাহলে অনেকেই এটি ব্যবহার করবে। আপনি ইচ্ছে করলে এর সঙ্গে গুগল অ্যাডসেন্সের মতো বিজ্ঞাপনি সেবাগুলো যোগ করতে পারেন। বেশি ভিজিট বা বেশি ক্লিক মানেই পকেটে অর্থ। ভালো গেমস অ্যাপ্লিকেশন করতে পারলেই ফেসবুক সেটি কিনে নেবে। ফেসবুকে অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপ করতে ভিজিট করুন http://www.developers.
facebook.com

নতুন কিছু
ফ্ল্যাশ তৈরি, প্রোডাক্ট রিভিউ, ব্লগ তৈরি, প্রজেক্ট টেস্টার অর্থ উপার্জনের আরও কয়েকটি পথ। তবে টেকনিক্যাল জ্ঞান না থাকলে নেটে প্রচুর টিউটোরিয়াল রয়েছে যেখানে বেশ কিছু কাজের গোছানো বর্ণনা রয়েছে। এখান থেকে আপনি কাজগুলো শিখে নিতে পারেন।
আপনি যদি নিজের সৃজনশীলতাকে কাজে লাগাতে পারেন তাহলে আপনি সহজেই বিপুল পরিমাণে অর্থ উপার্জন করতে পারেন। বর্তমানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিভিন্ন প্রফেশনাল কোর্স করায়।

সহজে আয় কতটা সহজ?
সহজে আয় বলতে মূলত ক্লিক করে আয় বুঝায়। পিটিসি বা পেইড টু ক্লিক হচ্ছে এক ধরনের বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্ক। সেখানে আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দেয়া হয়। আপনি যেহেতু সেই বিজ্ঞাপন দেখবেন, সেহেতু টাকা পাবেন। প্রতি বিজ্ঞাপনের জন্য ১ বা ২ সেন্ট থেকে শুরু করে .১ সেন্ট পর্যন্ত। তবে অর্থের পরিমাণ একেবারেই কম।
অনেক পিটিসি সাইট ক্লিক করে আয়ের সঙ্গে নানা ধরনের পদ্ধতিতে আয়ের সুযোগ দেয়। যেমন ইমেইল সদস্য হলে আপনার কাছে ইমেইল আসবে, সেগুলো পড়বেন বলে আপনি অর্থ পাবেন (এগুলোও বিজ্ঞাপন)। অন্যদের সদস্য করলে তারা যে আয় করবেন তার অংশ পাওয়া যায়।
এ ধরনের আয় সম্পর্কে কিছুটা সাবধান থাকা ভালো। এভাবে আয়ের পরিমাণ অত্যন্ত কম। কাজ সহজ বলে অনেক কোম্পানি বেশি টাকার লোভ দেখিয়ে কাজ করায় (যেমন প্রতি ক্লিকে ১ ডলার বা ১০ ডলার), বাস্তবে কোনো বিজ্ঞাপনদাতা এত টাকার বিজ্ঞাপন দেন না। ফল হিসেবে আপনার নামে টাকা জমা হওয়ার পর যখন টাকা চাইবেন তখন সেই কোম্পানি আর যোগাযোগ করবে না।
আরেকটি সমস্যা হচ্ছে, অনেক কোম্পানি সদস্য হওয়ার জন্য টাকা দিতে বলে। এভাবে বহুজনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যায়। বাংলাদেশেও ডোল্যান্সারসহ সম্প্রতি এ রকম কয়েকটি কোম্পানি কোটি কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছে। কোনো পিটিসি সাইটের সদস্য হওয়ার আগে তাদের সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে নিশ্চিত হওয়া ভালো। এই প্রধান পথগুলোর বাইরে ইন্টারনেট থেকে আয়ের আরও অসংখ্য পথ রয়েছে। নিয়মিত কিছুদিন ইন্টারনেটে সার্চ করে তাদের বর্ণনা পড়ে নিজের পছন্দের পদ্ধতি খুঁজে নিতে পারেন।